আরাকান আর্মির হামলার জবাবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের মারছে বার্মিজ বাহিনী

000_IF6JK-630x378-300x180.jpg

হাসান হাফিজ, আরাকান টিভি : 

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন ও মঘদের বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হামলার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে আবারো অভিযান শুরু করেছে বার্মিজ বাহিনী। এতে করে বার্মার পশ্চিমাঞ্চলীয় আরাকানের বেকসুর রোহিঙ্গারা দ্বিমুখী আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। একদিকে আরাকান আর্মি আর অন্যদিকে বার্মিজ সৈন্যদের অস্ত্রের মুখে পড়ছে রোহিঙ্গারা।

বার্মা কর্তৃপক্ষের দাবি, গত সপ্তাহে আরাকানের অন্তত চার পুলিশ স্টেশনে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির হামলার পর এই সেনা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার  অেভিযানের বিষয়ে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি এ বিষয়ে সামরিক প্রধান মিন অংহ্লাইংয়ের  সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

পরে নেইপিদোতে  আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মুখপাত্র জ হতয়ে বলেন, ‘প্রদেশে অবস্থান্তর বিদ্রোহীদের দমন করতে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে সু চি প্রশাসন।’

সরকারের এ মুখপাত্র আরও বলছেন, ‘সু চি, রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র বিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে বৈঠক করেছেন। সে সময় তাদের সঙ্গে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এবং তার উপপ্রধান ও সেনা-গোয়েন্দা প্রধানসহ সামরিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।’

সু চি প্রশাসনের এ কর্মকর্তা আরও বলছেন, ‘রাষ্ট্রপতিের কার্যালয় থেকে সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসীদের দমনের জন্য অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বলাবাহুল্য, আরাকান আর্মির সাথে রোহিঙ্গাদের কোন সম্পর্ক নেই। আরাকান আর্মি একটি বুড্ডিস্ট সংগঠন। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠনের নাম হল আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশান আর্মি (আরসা)।  সাম্প্রতিক হামলাগুলোর সাথে সাধারণ রোহিঙ্গা বা রোহিঙ্গাদের কোন সংগঠন জড়িত ছিলনা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বার্মিজ সরকার আরাকান থেকে সমূলে রোহিঙ্গা উচ্ছেদের জন্য নতুন নতুন ইস্যু তৈরী করে। এবার আরাকান আর্মির হামলাকে ইস্যু বানিয়ে রোহিঙ্গা নির্মূলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ৪ঠা জানুয়ারী বাংলাদেশ সীমান্ত বর্তী ৪টি মিলিটারী ক্যাম্পে হামলা চালায় আরাকান আর্মি। এতে ১৪ জন বার্মিজ সৈন্য ও ২জন আরাকান আর্মির সদস্য নিহত হন।

Share this post

PinIt
scroll to top