সারাজীবন মসনদে থাকার ৫টি টিপস: স্বৈরশাসকদের জন্যে একটি দিক নির্দেশনা

sangki.jpg

চীনে শীর্ষ শাসকর মসনদে থাকার নির্দিষ্ট মেয়াদের সময়সীমা প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে এবং এটি কার্যকর হলে বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং ‘সারাজীবন মসনদে’ থাকতে পারবেন।

ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে রোববার দেশটির সাংবিধানিক অদল-বদলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পার্লামেন্টের অনুমোদনের পরই এটি কার্যকর হবে। তবে চীনে কংগ্রেসই নীতি নির্ধারণে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান।

বিবিসির ডেইলি পলিটিক্স অনুষ্ঠানের রিপোর্টার এলিজাবেথ গ্লিঙ্কা বিশ্ব শাসকদের মধ্যে যারা ক্ষমতা ছাড়তে চান না তাদের জন্যে পাঁচটি টিপস দিয়েছেন। বলেছেন, সারাজীবন মসনদে থাকতে হলে একজন রাজনীতিককে কি কি করতে হবে। তিনি বলছেন, কোনো একটি দেশে কেউ তাকে মসনদে দেখতে না চাইলেও এই দিক নির্দেশনা বা নির্দেশিকা তাকে দীর্ঘ সময় ধরে মসনদে থাকতে সাহায্য করবে:

এক. সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করুণ:

সংবাদ মাধ্যমগুলো যাতে স্বাধীনভাবে খবর পরিবেশন করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সংবাদ মাধ্যমে যদি সমালোচনা-ধর্মী কিছু প্রকাশ করা হয় তাহলে সেটাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে মসনদে থাকতে হলে তাদের পরিবেশিত বার্তার উপর থাকতে হবে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। এজন্যে খুবই বিখ্যাত উত্তর কোরিয়া। এই দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে সরকারের পক্ষে যেসব প্রচারণা চালানো হয় তার জন্যে দেশটি সুপরিচিত।

ইন্টারনেটকে নিয়ন্ত্রণ করার কথাও ভুললে চলবে না। এজন্যে বিখ্যাত চীন। ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর ক্ষেত্রে নানা রকমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে হবে ফায়ার ওয়াল বসিয়ে। দেশটিতে ‘উইনি দ্য পু’ কার্টুনও নিষিদ্ধ। কারণ রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং-এর ডাক নাম পু।

দুই. পদ অদল-বদল করতে হবে:

যদি কোনো দেশের সংবিধান অদল-বদল করা সম্ভব না হয়, যেমনটা করা হয়েছে, চীনের সংবিধানে, তাহলে পদ অদল-বদল করতে পারেন। যেমনটা করেছেন রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন।

মি. পুতিন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তারপর সেটা ছেড়ে হয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান, আবার রাষ্ট্রপ্রধান পদ ছেড়ে দিয়ে হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর আবার রাষ্ট্রপ্রধান। শুধু আপনি যখন দেশের বাইরে থাকবেন তখন যাতে আপনার অনুগত ও বিশ্বস্ত লোকদের হাতে ক্ষমতা থাকে সেটা নিশ্চিত করে যেতে হবে। তবে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কারো হাতে ক্ষমতা দিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার চিন্তাটা বাদ দিতে হবে।

তিন. দারুণ একটা নাম নিতে হবে:

নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ বোঝাতে হলে আপনার নামটা কি এবং সেটা শুনতে কেমন শোনায় সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উগান্ডার স্বৈরশাসক ছিলেন ইদি আমিন। কিন্তু তিনি শুনতে চাইতেন তাকে বলা হোক ‘মহামান্য, সারাজীবনের রাষ্ট্রপ্রধান, বিশ্বে সব শান্তি ও সমুদ্রে সব মাছের রাজা এবং আফ্রিকায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিজয়ী ইদি আমিন।’

চার. সকল নির্বাচনে জয়ী হতে হবে:

যদি দেশে নির্বাচন দেয়া হয় তাহলে সব নির্বাচনে জিততে হবে। সাবেক রুশ শাসক স্তালিন বলেছিলেন, যেসব জনগণ ভোট দিচ্ছেন তাদের গণনায় নেওয়ার কিছু নেই, বরং তাদেরকে গণনায় নিতে হবে যারা ভোট গণনা করছেন।

ইরাকি শাসক সাদ্দাম হোসেন এবং উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন নির্বাচন দিয়ে তাতে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। ভোটের ১০০ শতাংশও পেয়েছিলেন তারা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিউবার রাউল ক্যাস্ত্রো এবং সিরিয়ার বাশার আল আসাদ তাদের চেয়ে সামান্য কম ভোট পেয়েছেন। তাদের প্রাপ্ত ভোট ছিলো ৯৭ থেকে ১১ শতাংশ।

পাঁচ. নিজের একটা ইমেজ তৈরি করুন:

নিজের একটা ভাবমূর্তি তৈরি করুন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি দেখতে কেমন, কি ধরনের পোশাক-আশাক পরেন, আপনার কতোগুলো বন্দুক আছে, পুতিনের মতো খালি গায়ে ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়ান, যাতে সবাই আপনার দিকে ঘুরে তাকায়।

Share this post

PinIt
scroll to top